আজকের যুগে আকাশপথে যাত্রী পরিবহন শুধু বিলাসিতা নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিটি উড্ডয়নের পেছনে যে অগোচর পরিশ্রম, বিজ্ঞান ও দায়িত্ববোধ লুকিয়ে থাকে, তার মূল নায়ক হচ্ছেন — Aircraft Maintenance Engineer (AME)। এদের দক্ষতা ও অনুমোদন ছাড়া পৃথিবীর কোনো বিমানই আকাশে উড়তে পারে না। আর এই কারণেই, একজন লাইসেন্সধারী এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বব্যাপী অন্যতম সম্মানজনক ও উচ্চবেতনের পেশাজীবী হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্বজুড়ে বিমান শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে লাইসেন্সধারী AME-এর চাহিদা আকাশছোঁয়া। অস্ট্রেলিয়ায় একজন Licensed Aircraft Maintenance Engineer-এর গড় বার্ষিক বেতন বর্তমানে প্রায় AUD ১,৫০,০০০ (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ কোটি ২৩ লক্ষ)। অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সরকারি ডেটা অনুযায়ী, সপ্তাহে গড় আয় AUD ১,৯৭৮। যুক্তরাষ্ট্রে এই পেশাজীবীদের বার্ষিক আয় প্রায় USD ১,১০,০০০, আর ইউরোপে গড়ে বছরে €৪০,০০০ থেকে €৭০,০০০ পর্যন্ত আয় করে একজন অভিজ্ঞ EASA লাইসেন্সধারী ইঞ্জিনিয়ার। এই পরিসংখ্যান শুধু অর্থ নয় — দক্ষতা, দায়িত্ব ও মর্যাদার প্রতিফলন।
একজন Licensed Aircraft Maintenance Engineer-এর কাজ কেবল যন্ত্র মেরামত নয়; তাঁর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে শত শত প্রাণের নিরাপত্তা। একটি ছোট ভুল হতে পারে বড় দুর্ঘটনার কারণ। তাই এই পেশার প্রতিটি মুহূর্তে থাকে প্রযুক্তিগত নিখুঁততা, সতর্কতা ও জবাবদিহি। তাছাড়া, প্রতিটি বিমান সংস্থার জন্য এদের ভূমিকা অপরিহার্য। একটি বিমান সার্ভিসে ফিরবে কি না, তা নির্ধারণ করেন এই ইঞ্জিনিয়াররা। এই দায়িত্বের কারণেই তাঁরা পান সর্বোচ্চ সম্মান ও বেতন।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ICAO)-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী দশ বছরে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রয়োজন হবে আরও ৬ লক্ষের বেশি দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার। বিশেষত EASA (Europe), FAA (USA), ও CASA (Australia) অনুমোদিত লাইসেন্সধারীরা চাকরি পাবেন এভিয়েশন কোম্পানি, প্রতিরক্ষা খাত ও প্রাইভেট এয়ারলাইনে। এই পেশার আকর্ষণ এখানেই — আপনি যদি দক্ষ হন, তবে কাজের কোনো সীমা নেই। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া বা অস্ট্রেলিয়া — সবখানেই দরজা খোলা।
একজন AME হওয়ার পথ শুরু হয় EASA Part-147 কোর্স দিয়ে। এতে দুই বছর পড়াশোনা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, এরপর On-Job Training (OJT), এবং অবশেষে বেসিক লাইসেন্স ও Type Rating সম্পন্ন হলে পাওয়া যায় “Signing Authority” — মানে, নিজের সিগনেচারে বিমান উড্ডয়নের অনুমোদন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কোনো EASA অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নেই। তবে বিদেশে, যেমন Aviation Australia ও AST (UK) এই কোর্স অফার করে। যারা মনোযোগী, তারা মাত্র ৪–৬ বছরের মধ্যেই বিশ্বমানের লাইসেন্সধারী ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে।
এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার কিভাবে হওয়া যায় জানতে এখানে ক্লিক করুন
এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার হতে কত টাকা লাগবে
লাইসেন্সধারী ইঞ্জিনিয়ারদের আয় যতটা বড়, ততটাই বড় তাদের দায়িত্ব। তারা শুধুমাত্র মেশিনের নয়, মানুষের জীবন রক্ষা করে। তাদের কাজের প্রতিটি সাইন মানে এক একটি জীবন নিরাপদ। একজন সফল AME কখনো শুধু বেতনের জন্য কাজ করেন না; তিনি গর্ববোধ করেন এই জেনে যে তাঁর সিগনেচারে একটি বিমান নিরাপদে আকাশে উঠেছে।